মাদারীপুরে গৃহবধূ ও শিশুসন্তানকে হত্যার ঘটনায় কথিত সাংবাদিক গ্রেপ্তার

প্রকাশ:

মাদারীপুরের শিবচরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার এক বছর বয়সী সন্তানকে হত্যার ঘটনায় ফারুক মোল্লা নামে এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি শিশুটিকে হত্যার পর আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিহত শাম্পা খাতুন (২৮) নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শাম্পার স্বামী বর্তমানে একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এই সুযোগে আদালতে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ফারুকের সঙ্গে তার পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে ওঠে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত বুধবার ফারুক শাম্পাকে নিজ বাসায় ডেকে আনেন। রাতে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিজের কাছে রেখে মরদেহ ওই এলাকার পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখেন।

গত বুধবার সকালে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকার একটি ঝোপের পাশ থেকে পুলিশ অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহতের বাবা বৃহস্পতিবার শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও র‍্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই রাজৈর থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দাবি, শাম্পাকে হত্যার সময় তার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরও সঙ্গে ছিল। পরে শিশুটিকেও হত্যা করে মরদেহ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ফারুকের বাসা থেকে শাম্পার স্বর্ণের নাকফুল, রুপার গলার চেইন, এক জোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন