স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার যে প্রস্তাব এসেছিল, তাতে সায় দেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রকৃতির হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার আইনি কোনো সুযোগ তাদের নেই।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ এ প্রসঙ্গে জানান, নির্বাচন কমিশনের এমন কোনো এখতিয়ার নেই যে তারা কোনো দলের নেতাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো প্রার্থী যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারেন, তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার রাখেন।
তবে কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু নতুন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দ্বৈত নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক, ঋণখেলাপির জামিনদার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাবও সংশোধনীতে রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আরও বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন-সংক্রান্ত আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষে এক সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিধান বাতিল করা, জামানতের পরিমাণ বাড়ানো এবং হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদানের দায়ে মনোনয়ন বাতিলের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।





