২০২২-এর আক্ষেপ মুছে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নায়ক লাওতারো মার্তিনেজ

প্রকাশ:

আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ সময় তখন। লিওনেল মেসির ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসটি যেন লাওতারো মার্তিনেজের জন্যই অপেক্ষায় ছিল। বদলি হিসেবে মাঠে নামা মার্তিনেজ সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসে জয় নিশ্চিত করে। যদিও এই জয়ের প্রধান নায়ক মেসি, তবে পার্শ্বনায়ক হিসেবে মার্তিনেজের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ম্যাচ শেষে এই স্ট্রাইকারের আবেগঘন মুহূর্ত অনেককেই ছুঁয়ে গেছে, যা তার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প মনে করিয়ে দেয়।

মার্তিনেজের ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল আর্জেন্টিনার বাইয়া ব্লাঙ্কা শহরে। স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবল খেলা বাবার হাত ধরেই তার ফুটবলের হাতেখড়ি। দুই ভাইয়ের একজন ফুটবলার এবং অন্যজন বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পেলেও, কিশোর বয়সে বাস্কেটবলের কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত ফুটবলকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন লাওতারো। রেসিং ক্লাবে তার শুরুর সময়টা ছিল বেশ কঠিন, এমনকি বাড়ি ছাড়ার কষ্ট ভুলতে না পেরে তিনি ক্লাব ছেড়ে ফেরার কথাও ভেবেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত না ফিরে তিনি ইন্টার মিলানের নজরে পড়েন এবং ২০১৮ সালে ইতালিতে পাড়ি জমান। এরপর থেকে ইন্টার মিলানের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি সিরি ‘আ’র সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাবও একাধিকবার জিতেছেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে মার্তিনেজের পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের পর তিনি একাদশে জায়গা হারান এবং গোড়ালির চোটে পুরো টুর্নামেন্টে ভুগছিলেন। সেই বিশ্বকাপে কোনো গোল না পাওয়ায় তার জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। তবে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ২০২৪ কোপা আমেরিকায় তিনি পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন এবং ফাইনালের জয়সূচক গোলটিও করেন।

২০২৬ বিশ্বকাপেও শুরুর দিকে একাদশে অনিয়মিত ছিলেন মার্তিনেজ। জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল পাওয়ার পর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে নিজের জাত চেনান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে সতীর্থ ম্যাক আলিস্টার ও মেদিনাকে তিনি গোল করার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, যা তিনি মাঠে প্রমাণ করেছেন। মার্তিনেজ বলেন, তার বাবা-মায়ের অবদান এবং দুই সন্তানের বাবা হওয়ার পর থেকে তিনি নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ মনে করেন। আজো তার মা তার বিছানা গুছিয়ে দেন, যা তার কাছে যেকোনো গোল বা ফাইনালের চেয়েও বড় প্রাপ্তি। সামনে আরেকটি ফাইনাল, যেখানে একাদশে সুযোগ না পেলেও ইতিহাস গড়ার মুহূর্তের অপেক্ষায় আছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

শেয়ার করুন