রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে কথিত গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আবেদন মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম অংশ নেন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের ঘটনায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এর আগে গত ২৭ জুলাই এ মামলায় প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ১০ জনকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। বর্তমানে এই মামলায় আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। এছাড়া হাসানুল হক ইনু ও আবদুর রাজ্জাক অন্য মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিরা পলাতক অবস্থায় আছেন।
মামলাটিতে দুটি পৃথক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও রাশেদুল ইসলাম ও আবু ইউসুফসহ অনেককে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব ঘটনা গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়নসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।





