জিয়াউল আহসানের নির্দেশে বিডিআর সদস্যসহ হত্যার সাক্ষ্য দিলেন সাবেক ব্রিগেডিয়ার

প্রকাশ:

মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মনিরুল হক। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্য প্রদানকালে মনিরুল হক বরিশালের পাথরঘাটায় জিয়াউল আহসানের নির্দেশে বিডিআর সদস্য নজরুলসহ কয়েকজনকে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলার ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।

এদিন বেলা সাড়ে ১০টার পর সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দেন। এজলাস কক্ষের কাঁচের দেয়ালের ভেতরে বসে আসামি জিয়াউল আহসান নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া এই জবানবন্দি শোনেন এবং নোট গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মীজানুল ইসলাম, শাইখ মাহদী ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইদুর রহমান ও নাজনীন আহসান।

৬২ বছর বয়সী মনিরুল হক তার জবানবন্দিতে জানান, তিনি ১৯৯০ সালের ২২ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সে লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন লাভ করেন এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। ২০০৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি র‍্যাব-৮ বরিশালের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানান, র‍্যাব সদর দপ্তরে সিও’স কনফারেন্সে তৎকালীন মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং ডাইরেক্টর (ইন্টেলিজেন্স) লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানসহ অন্যান্য পরিচালকরা দিক-নির্দেশনা দিতেন।

সাক্ষ্য অনুযায়ী, র‍্যাব অধিনায়করা যখন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা নিয়ে চ্যালেঞ্জের কথা জানাতেন, তখন তৎকালীন মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান ‘ওয়াজিবাতুল কতল’ শব্দটি ব্যবহার করে অপরাধীদের ক্ষেত্রে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতেন। মনিরুল হক জানান, সুন্দরবন ও বরিশাল অঞ্চলের জলদস্যু ও চরমপন্থি দমনে র‍্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইং সরাসরি অপারেশন পরিচালনা করত। লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান এবং তার উইংয়ের সদস্যরা বরিশাল অঞ্চলে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিতেন। তিনি আরও বলেন, র‍্যাবের গোয়েন্দা উইং নিজস্ব সক্ষমতার কারণে সরাসরি তথ্যসহ অভিযান পরিচালনা করত, যেখানে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য পেত।

শেয়ার করুন