১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমদানি কমিয়ে দেশীয় কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী তার নিজ কার্যালয় থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হেঁটে যান এবং এ সময় লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব কৃষিপণ্য দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এজন্য উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ সুবিধা এবং যান্ত্রিকীকরণের ব্যবহার দ্রুত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তিনি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে অধিকতর উৎপাদনশীল ও লাভজনক করে তোলার ওপর জোর দেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোজ্য তেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, দেশে ধানের ১৫৫টি জাতসহ মোট এক হাজার ৯০টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে বর্তমানে দুই হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা চালু রয়েছে।

কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার প্রথম ধাপে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের বিপণন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শেয়ার করুন