যশোরে মৎস্যঘেরে মাছ মরার ঘটনা ভিত্তিহীন দাবি বিদ্যুৎ বিভাগের

প্রকাশ:

যশোরের শার্শা উপজেলায় মৎস্যঘেরে বিপুলসংখ্যক মাছের মৃত্যুর ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করার অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ। গত সোমবার সন্ধ্যায় যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাবি জানান। তিনি জানান, ঘটনার দিন ওই এলাকায় মাত্র ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল এবং একই লাইনে থাকা অন্য ১২টি মৎস্যঘেরে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার দিনগত রাত ১টার দিকে, যখন শার্শার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের এএফ মৎস্য খামারে মাছের মড়ক দেখা দেয়। শনিবার সকালে ঘেরের পানিতে বিপুল পরিমাণ মৃত মাছ ভেসে ওঠে। খামারের মালিক আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেনের দাবি, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহকারী প্যাডেল হুইল অ্যারেটর মেশিন চালানো সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র গরম যোগ হওয়ায় পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে মাছগুলো মারা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের দাবি অনুযায়ী, ২০০ বিঘা আয়তনের ওই ঘেরে প্রায় ৬০ লাখ পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী পাবদা মাছসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। আলফাজুল হক স্বীকার করেন যে, খামারে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না রাখা তাদের ভুল ছিল। তিনি আরও জানান, মাছের খাদ্যের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকিতে মালামাল নেওয়া হয়েছিল, যা এখন পরিশোধ করা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এদিকে, মাছ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের লক্ষ্যে যশোর জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে নাভারণ সার্কেলের এএসপি, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ৪০ মিনিট লোডশেডিং হলেও, কেবল এতটুকু সময়ে এভাবে মাছ মরে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানিয়েছেন, রিপোর্ট পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান।

এদিকে, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাত ১টার দিকে শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলে এএফ মৎস্য খামারে মাছের মড়ক (ঘেরে অক্সিজেনের অভাবে মাছের মৃত্যু) শুরু হয়। পরে শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে ঘেরের পানিতে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়।

শেয়ার করুন