৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকুরেদের সুযোগ-সুবিধায় বড় পরিবর্তন, নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন

প্রকাশ:

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৪২। নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই কাঠামোর আওতায় নিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে, সেই সাথে ঝুঁকি ভাতা বাড়ানো হয়েছে এবং নববর্ষের ভাতা কমানো হয়েছে। অর্থ বিভাগ বর্তমানে এই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির জন্য কাজ করছে এবং শিগগিরই এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর বাস্তবায়ন শুরু হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এই বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান বরাদ্দের চেয়ে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা বেশি। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকায়।

পেনশন সুবিধার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আবাসন সংকট নিরসনে এলাকাভিত্তিক বাড়িভাড়া ভাতায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার পৌরসভার জন্য ৩০-৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য গ্রেডভেদে ২৫-৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা অনুমোদন করা হয়েছে।

চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত ৩,০০০ টাকা, ৫০ বছর একদিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪,০০০ টাকা, ৬০ বছর একদিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫,০০০ টাকা এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে ৬,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন কর্মচারীরা। পাশাপাশি মোবাইল ভাতা গ্রেড-৫ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের জন্য ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-৬ ও নিচের গ্রেডের জন্য ১৫০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের কল্যাণে নতুন করে ৩,০০০ টাকার ভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ দুজন সন্তান পর্যন্ত পাওয়া যাবে। নববর্ষের ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি ও হাওড় অঞ্চলের জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাতা বহাল রাখা হয়েছে। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার গ্রেড-৬ ও নিচে ৫ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এর জন্য ৩.৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এর জন্য ২.৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রতিরক্ষা ও ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এছাড়া সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতা দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি, বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা এবং ১৫০-৫০০ টাকা পর্যন্ত মোবাইল ভাতা দেওয়ার বিধান রেখে সামরিক ও বেসামরিক খাতের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থ বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে। শিগগির ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে অর্থ বিভাগ।

পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে (পার্বত্য জেলা সদর ও সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা, অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় সর্বোচ্চ ৫২০০ টাকা এবং হাওড়/দ্বীপ/চর এলাকায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হার অপরিবর্তিত রেখে সর্বোচ্চ সীমা ৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন