ভারতে পাচারের শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসা নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসনের লক্ষ্যে যশোরের বেনাপোলে একটি হাফওয়ে শেল্টার হোমের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বেনাপোলের একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। মূলত মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের অস্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা এবং মানসিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোরের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি)-এর গ্লোবাল অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট ট্রাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেন্ডার-সংবেদনশীল ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এই কেন্দ্রের লক্ষ্য।
বেনাপোলের ভবেরবেড় এলাকায় অবস্থিত এই শেল্টার হোমটিতে একসঙ্গে ৩০ জনের থাকার সক্ষমতা রয়েছে। ভুক্তভোগীরা সাধারণত তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত এখানে অবস্থান করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে তারা নিরাপদ আবাসন, পুষ্টিকর খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা, আইনি সহায়তা এবং মনোসামাজিক কাউন্সিলিংয়ের মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলো পাবেন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে তাদের নিরাপদ পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর প্রদীপ দত্ত। এ সময় ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাসনীম বিনতে করিম, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেনাপোল পৌর প্রশাসক ফজলে ওয়াহিদ, প্রেসক্লাব বেনাপোলের সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন এবং বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
রাইটস যশোরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এস এম আজহারুল ইসলাম শেল্টার হোমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, সীমান্ত দিয়ে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের নিরাপদ আশ্রয় ও সমাজে পুনঃএকীভূত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বক্তারা আরও বলেন, মানব পাচার একটি আন্তঃদেশীয় অপরাধ, যা রোধ করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রয়াস অপরিহার্য। বেনাপোলের এই হাফওয়ে শেল্টার হোম সেই প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে।





