তরুণ প্রজন্মের চাপে পিছু হটল মোদি সরকার, শুরু নতুন রাজনীতির?

প্রকাশ:

গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাজনৈতিকভাবে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হতো। তার সরকার বিরোধীদের কৌশল পরাস্ত করা এবং জনপরিসরে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর তরুণ প্রজন্মের একটি আন্দোলন মোদি সরকারকে এমন এক ধাক্কা দিয়েছে, যা মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোও দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক অভিজিৎ দিপকে’র গড়ে তোলা ব্যাঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর চত্বরে হাজার হাজার জেন-জি বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচার ও জবাবদিহি দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, এই কেলেঙ্কারির কারণে লাখো শিক্ষার্থী ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যন্তর মন্তরে আনন্দ উদযাপন করেন আন্দোলনকারীরা।

এই ঘটনাকে বিজেপির জন্য একটি বিরল পিছু হটা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাহুল ভার্মা মনে করেন, এটি বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা, কারণ সরকার সম্ভবত সমাজের গভীরের এই ক্ষোভের পরিধি বুঝতে পারেনি। এর আগে নোটবন্দি, নাগরিকত্ব আইন বা কৃষক আন্দোলনের মতো ইস্যুগুলো আদর্শিক বা নীতিগত ছিল, কিন্তু সিজেপির এই আন্দোলনটি প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠায় সরকারের জন্য তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ভারতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা ৩৬ কোটির বেশি, যাদের মধ্যে ২৫ বছর বা তার কম বয়সী স্নাতকদের প্রায় ৪০ শতাংশ বেকার। অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ সত্ত্বেও ব্যক্তিগত কর্মসংস্থানের অভাব তরুণদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি করেছে। ২২ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী অক্ষিত ত্যাগীর মতে, এখন মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে যে সরকারের কাছে দাবি জানানো সম্ভব। প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারতের এই তরুণদের আন্দোলন বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।

এটি ছিল মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য বিরল এক পিছু হটা। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলটি একের পর এক নাগরিক আন্দোলন সামাল দিয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা মোদির সেই শক্তিশালী নেতার ভাবমূর্তিতেও আঘাত হেনেছে, যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তুলেছিলেন। এই সাফল্যের পর অনেকের মধ্যেই বিশ্বাস জন্মেছে যে, পরিবর্তন আসা সম্ভব। রাজ

ক্ষমতায় থাকার ১২ বছরে বিজেপি নোটবন্দি সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ, বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলন এবং কৃষক আন্দোলনসহ একাধিক বড় বিক্ষোভ মোকাবিলা করেছে। ভার্মার মতে, সেসব আন্দোলন মূলত নীতিগত বা আদর্শিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করে ছিল। ফলে সরকার পাল্টা প্রচারণা চালিয়ে সমর্থকদের একত্র করতে পেরেছিল। কিন্তু সিজেপির আন্দোলন ছিল প্রশ

শেয়ার করুন