গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

প্রকাশ:

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ গুদামজাত করে মেয়াদোত্তীর্ণ করার ঘটনায় অবশেষে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গাজীপুরের বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছে। গত ৮ জুলাই স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত অভিযোগনামার মাধ্যমে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়।

মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বিতরণে ব্যর্থতার প্রাথমিক সত্যতা তদন্তে পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অধীনে এই ঘটনাকে অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডা. মামুনুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং তাকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি কোয়ার্টার ভবনের নিচতলার পাঁচটি পরিত্যক্ত কক্ষে সরকারি ওষুধ বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছিল। একই সাথে হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল। তৎকালীন সময়ে ডা. মামুনুর রহমান কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সমান্তরালভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করে। তদন্তে সরকারি সম্পদের অপচয় এবং দরিদ্র রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন।

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় অনিয়ম দীর্ঘ সময় ধরে চললেও তা কেন আগে শনাক্ত করা যায়নি। এছাড়া তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি সম্পদ নষ্ট ও জনস্বাস্থ্য সেবার ক্ষতির অভিযোগে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি আর্থিক দায় নির্ধারণ এবং আইনানুগ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। বর্তমানে ডা. মামুনুর রহমানের জবাব এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন