১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ

প্রকাশ:

রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়েছেন বিদ্যালয়ের এক সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলী। পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের আক্রোশ থেকে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলেন। সেই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে মাঠের ফাঁকা জায়গায় কলাগাছের চারা রোপণ করেছেন। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তিনি সঙ্গীদের নিয়ে এসে এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

২০১৫ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির নাম পরবর্তীতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় পরিবর্তন করে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ রাখা হয়। কমিটির ওই রেজুলেশনে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবদাতা ছিলেন আজাদ আলী নিজেই। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে এবং গত ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত পাঠদান চলছে। তবে বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি।

আজাদ আলীর দাবি, প্রযুক্তিগত কলেজ হিসেবে গড়ে তোলার শর্তে ছেলেকে ও পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা না হওয়ায় তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, জমি দান করার সময় ছেলে ও পুত্রবধূর চাকরির বিষয়টি চুক্তিতে ছিল এবং পুত্রবধূকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগও দেওয়া হয়েছিল। ওই শিক্ষিকা মারা যাওয়ার পর তার পরিবারের অন্য সদস্যকে চাকরি দেওয়ার বিষয়েও কমিটির সম্মতি ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।

বর্তমানে জমি ও প্রতিষ্ঠানের নাম সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিষয়টি রাজশাহীর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছিল ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। মামলার মধ্যেই এই অস্থিরতা চলছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম দাতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, শিক্ষা বোর্ড থেকে সম্প্রতি নতুন কমিটির অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান চলমান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। স্থানীয় দোকানি লাল মোহাম্মদ বলেন, আগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকলেও মামলা ও বিশৃঙ্খলার কারণে তা কমেছে। এছাড়া বাঁশের বেড়া দেওয়ায় স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি ব্যবহারের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও ফিরে আসার পরপরই বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পেছনে যে কারণই থাকুক না কেন, শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া বা অবরুদ্ধ করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

শেয়ার করুন