আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ বিকেলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত সভায় ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্।
বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বলে কাউকে আলাদা করার অবকাশ নেই; আমরা সবাই বাংলাদেশি। প্রধানমন্ত্রীর এই নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশপ্রেমকে পাথেয় করে দেশের অগ্রযাত্রায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। সম্প্রীতির এই বন্ধন অটুট রাখতে প্রতিটি নাগরিককে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। এ দেশের মানুষ পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে আসছে। এ লক্ষ্যে প্রত্যেককে তিনি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং মহানগর এলাকায় ডিএমপি কমিশনার ও আইজিপির সঙ্গে সমন্বয় করে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলোতে ভোররাত পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। পূজার আগে প্রতিটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও মহড়া পরিচালনার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মণ্ডপের নিজস্ব নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব আয়োজকদের নিতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে এবং যে কোনো ঝুঁকি বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া নারীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা, ট্রাফিক পুলিশ ও আনসারের মাধ্যমে যানজট নিরসন এবং বিসর্জনের সময় মাদকসহ যেকোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড রোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা—ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। সভায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১ এর সংসদ সদস্য অ্যাড. নিপুন রায় চৌধুর।





