রাষ্ট্রপতির পদ থেকে শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তবে পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তিনি বিভিন্ন অবসরকালীন সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন।
‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত)’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলে বা মেয়াদ শেষ করলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মাসিক অবসর ভাতা পাবেন। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ প্রাপ্ত মাসিক বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে এই ভাতা নির্ধারিত হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হওয়ায়, তিনি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসর ভাতা পাবেন।
আইনে উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে অন্য কোনো চাকরি থেকে অবসর ভাতা পান, তবে তিনি রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা অথবা পূর্বের ভাতার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। এছাড়া কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি মারা গেলে তাঁর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী আমৃত্যু প্রাপ্য ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে মাসিক ভাতা পাবেন। প্রাধিকারপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি চাইলে ভাতার পরিবর্তে আনুতোষিক বা এককালীন অর্থও নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রাধিকার অর্জনের এক মাসের মধ্যে আবেদন করতে হয় এবং দায়িত্ব পালনের প্রতিটি বছরের জন্য নির্দিষ্ট হারে এই অর্থ প্রদান করা হয়। কোনো রাষ্ট্রপতি আনুতোষিকের ইচ্ছা ব্যক্ত না করে মারা গেলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীরা এই সুবিধা পাবেন।
অবসরে যাওয়ার পর মো. সাহাবুদ্দিন একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাওয়ার অধিকারী হবেন। এছাড়া সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বার্ষিক দাপ্তরিক ব্যয়, মন্ত্রীর সমপর্যায়ের চিকিৎসা সুবিধা, সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনা মূল্যে সরকারি যানবাহন, আবাসস্থলে টেলিফোন সংযোগ এবং এর বিল পরিশোধের সুবিধা পাবেন। তিনি একটি কূটনৈতিক পাসপোর্টও পাবেন এবং দেশের ভেতরে ভ্রমণের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন। তাঁর স্ত্রীও চিকিৎসা সুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সার্কিট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
তবে কিছু ক্ষেত্রে এই সুবিধাগুলো বাতিল হতে পারে। যদি কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি অবসরকালীন সময়ে কোনো সরকারি দপ্তরে বা পদে দায়িত্ব পালন করে নির্ধারিত তহবিল থেকে বেতন বা সুবিধা গ্রহণ করেন, তবে তিনি এই অবসর ভাতা পাবেন না। এছাড়া আদালতের মাধ্যমে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হলে অথবা অসাংবিধানিক বা অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি উচ্চ আদালত কর্তৃক ঘোষিত হলে তিনি এই সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হবেন।





