দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে আগামী ২৩ অক্টোবর। নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নিরসন, শাটল ট্রেন ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ার মতো নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচনের ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতে জয়ী হওয়ার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর বড় অংশই এখনো অধরা রয়ে গেছে।
নির্বাচনের আগে প্যানেলটির দেওয়া ৩৩ দফা ইশতেহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ১৮টিই বাস্তবায়িত হয়নি। যদিও ১০টি পুরোপুরি এবং ৫টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে, তবে সেগুলো মূলত তুলনামূলক ছোট পরিসরের কার্যক্রম। ইশতেহার অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট দূর করতে নতুন হল নির্মাণ ও বিদ্যমান হল সংস্কারের কথা থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তিনটি হলের বর্ধিত অংশে সংস্কারের মাধ্যমে মাত্র ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। একইভাবে শাটল ট্রেনের বগি সংস্কার করা হলেও ট্রেনের সংখ্যা বাড়েনি এবং বাস সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি।
চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। মেডিক্যাল সেন্টারকে ৩০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ ও অ্যাম্বুলেন্স বাড়ানোর অঙ্গীকার পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, চাইল্ড কেয়ার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যক্তিগত ইশতেহারের ক্ষেত্রেও ২২২টি অঙ্গীকারের মধ্যে ১০৭টি এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার আরেকটি ডিপিপিও শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও চাকসুর সভাপতি মোহাম্মদ আল-ফোরকান জানান, প্রশাসন চাকসুকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, আবাসনসংকটের মতো বড় সমস্যা সমাধানে ডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে এবং ১০ তলাবিশিষ্ট পাঁচটি হল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে চাকসুর চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।
চাকসুর ভিপি মো. ইব্রাহীম হোসেন দাবি করেন, আবাসন ও পরিবহন ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, নতুন শাটল ও বাস যুক্ত না হলেও পুরোনো শাটল সংস্কার, ইকো কার চালু ও রাতে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জিএস সাঈদ বিন হাবিবও একই মত পোষণ করে বলেন, মেয়াদের বাকি সময়ে অধিকাংশ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তবে বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, মৌলিক সমস্যা সমাধানে চাকসু ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের এজেন্ডার চেয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দিয়েছেন।
এদিকে, ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচিত একমাত্র প্রতিনিধি এজিএস আইয়ুবুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে শুরু থেকেই কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। কোনো কর্মসূচি বা আর্থিক ব্যয়ের বিষয়ে তাঁকে জানানো হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ভিপি ও জিএস এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষের দিকে হলেও পরবর্তী নির্বাচনের কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।





