১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থবছরের শুরুতে কৃষিঋণ বিতরণ ও আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধি

প্রকাশ:

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ এবং আদায়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ব্যাংকগুলো মোট ২ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণ করেছে। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। গত বছরের জুলাই মাসে এই বিতরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জন্য মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে জুলাই মাসেই লক্ষ্যমাত্রার ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

ঋণ বিতরণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো, যারা ১ হাজার ১১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বা মোট বিতরণের ৪১ দশমিক ৮১ শতাংশ বিতরণ করেছে। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৬৮৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বা ২৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকগুলো দিয়েছে ৫৭৪ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ২৮৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে জুলাই মাসে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কোনো কৃষিঋণ বিতরণ হয়নি। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শস্য উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বা ৪০ দশমিক ৪৭ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতে ৯২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বা ৩৪ দশমিক ৯০ শতাংশ, মৎস্য খাতে ৩৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ, দারিদ্র্য বিমোচন খাতে ১২২ কোটি ৩ লাখ টাকা, অন্যান্য খাতে ১১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, সেচ সরঞ্জাম খাতে ১১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, কৃষি সরঞ্জাম খাতে ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং শস্য সংরক্ষণ ও বিপণন খাতে ১০ কোটি ৩১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। জুলাই মাসে মোট অকৃষি পল্লীঋণ বিতরণ হয়েছে ২৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণের ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

ঋণ বিতরণের পাশাপাশি জুলাই মাসে কৃষিঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ মাসে ব্যাংকগুলো ৩ হাজার ৫২০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কৃষিঋণ আদায় করেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৯৫৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে আদায় বেড়েছে ৫৬৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে আদায়ের পাশাপাশি আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। জুলাইয়ে ব্যাংকগুলোর আদায়যোগ্য কৃষিঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৪২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ২৮ হাজার ৪৮২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আদায়যোগ্য ঋণ বেড়েছে ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, কৃষিঋণের বকেয়া বা ওভারডিউ কমেছে। গত বছরের জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ওভারডিউ ছিল ২৩ হাজার ৮০৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যা চলতি বছরের জুলাইয়ে কমে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৩৬৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকায়। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ওভারডিউ কমেছে ১ হাজার ৪৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণে খেলাপি ছিল ১৯ হাজার ৮৮৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা চলতি বছরের জুলাইয়ে কমে হয়েছে ১৮ হাজার ৮১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কৃষিঋণে খেলাপি কমেছে ১ হাজার ৬৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষিঋণের বড় অঙ্কের বকেয়া ও খেলাপি ঋণ থাকায় ঋণ আদায়ের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই নতুন কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। নতুন নীতি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে, যা গত অর্থবছর পর্যন্ত ছিল আড়াই শতাংশ। উল্লেখ্য, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও ব্যাংকগুলো তাদের নির্ধারিত ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বিতরণ করেছিল। ওই অর্থবছরে কৃষিঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪৫ হাজার ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। গত অর্থবছর শেষে ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণের বকেয়া ছিল ১৯ হাজার ৮০৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং খেলাপির পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

জুলাইয়ে ব্যাংকগুলো ৩ হাজার ৫২১ কোটি আদায় করেছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আদায়যোগ্য ঋণ বেড়েছে ৯৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।

শেয়ার করুন