১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতারে থাকা প্রবাসীর অর্থ-স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মোংলা পুলিশ

প্রকাশ:

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৩০। বাগেরহাটের মোংলায় কাতারপ্রবাসী এনামুল ফকিরের উপার্জিত অর্থ এবং প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী তানজিলা বেগম ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এনামুল ফকির মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে তিনি তার স্ত্রী তানজিলা বেগমের সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির কথিত সম্পর্কের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন।

এনামুল ফকির জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে তানজিলা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসারের প্রয়োজনে তিনি কাতারে পাড়ি জমান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় তিনি নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠাতেন এবং স্ত্রীর ব্যবহারের জন্য স্বর্ণালংকার তৈরি করে দিয়েছিলেন। তবে দেশে ফিরে তিনি স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে খলিল নামের এক ব্যক্তির সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এনামুল তার প্রবাসে উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে স্ত্রী তাকে আসল স্বর্ণের পরিবর্তে সিটি গোল্ডের অলংকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্বর্ণের দোকানে যাচাই করার পর সেগুলো সিটি গোল্ড বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তার শ্বশুর ও শ্যালক তাকে গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন এনামুল। তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি এবং তাকে নিয়মিত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

তবে তানজিলা বেগম এবং খলিল উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তানজিলা দাবি করেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। খলিলও তার বিরুদ্ধে ওঠা সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে এনামুলকে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। খলিলের সাবেক স্ত্রী জানিয়েছেন, খলিলের অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ও চ্যাটিংয়ের বিষয়ে জানতে পারার পর তিনি নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ তুলে তাকে ডিভোর্স দেন। তাদের চার বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে তানজিলাকে ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা প্রচলিত থাকলেও তার ব্যক্তিগত জীবন বা পেশা নিয়ে এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন