রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরও যেীবন যেসব সরকারি সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন

প্রকাশ:

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। তবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তিনি আজীবন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও অবসরভাতা পাবেন।

দি প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রপতি যদি ছয় মাসের বেশি দায়িত্ব পালন করেন অথবা পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেন, তবে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন।

অবসর সুবিধা আইন অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন একজন ব্যক্তিগত সহকারী এবং একজন অ্যাটেনডেন্টের সেবা পাবেন। এছাড়া সরকারি অনুষ্ঠানাদিতে অংশগ্রহণের জন্য তিনি বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। তার বাসভবনে একটি সরকারি টেলিফোন সংযোগ থাকবে এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে সরকার এর বিল বহন করবে। এছাড়াও দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ভাতাও তার জন্য প্রযোজ্য থাকবে।

অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসাসুবিধা, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সফরের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগ। তবে কোনো রাষ্ট্রপতি যদি আগে সরকারের অন্য কোনো পদে কর্মরত থেকে অবসর গ্রহণ করে থাকেন, তবে তিনি চাইলে আগের চাকুরিজীবী হিসেবে অথবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে—যেকোনো এক পদের অবসর সুবিধা বেছে নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে প্রণীত এই আইনে ২০১৬ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার একটি বিতর্কিত সংশোধন আনে। সেই সংশোধনীতে অসাংবিধানিক বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি আদালত ঘোষণা করলে অবসর সুবিধা না পাওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়। ওই সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে রাষ্ট্রপতির অবসর সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নতুন বিধানটি যুক্ত করা হয়েছিল।

শেয়ার করুন