রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এটি মুমিনের আত্মিক উৎকর্ষ সাধন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সাফল্যের স্বর্ণসিঁড়ি হিসেবে বিবেচিত। স্বয়ং আল্লাহতায়ালা এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। পবিত্র কোরআনেও মুমিনদের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করো।' (সুরা আহজাব : ৫৬)।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাম শুনলে বা উচ্চারণ করলে দরুদ পাঠ করা জরুরি। জীবনে অন্তত একবার দরুদ পাঠ করা ফরজ এবং এর আমল যেকোনো সময় ও অবস্থায় করা যায়। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। হাদিসে বর্ণিত পাঁচটি বিশেষ দরুদ নিচে দেওয়া হলো:
এক. কাব ইবনে উজরা (রা.) থেকে বর্ণিত, সাহাবারা রাসুল (সা.)-এর প্রতি সালাম ও দরুদ পেশের পদ্ধতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তোমরা বলবে- আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদ, কামা বারক্তা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।' (বোখারি : ৩৩৭০)।
দুই. জায়েদ ইবনে খারিজা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, 'তোমরা আমার ওপর দরুদ পাঠ করো এবং বেশি বেশি দোয়া করো। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।' (নাসায়ি : ১২৯২)।
তিন. উকবা ইবনে আমের (রা.) বর্ণিত দরুদটি হলো, 'আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিইয়িল উম্মিইয়ি ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন।' (আবু দাউদ : ৯৮১)।
চার. আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, নবী (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন যে, যার কাছে সদকা করার মতো কিছু নেই, সে যেন দোয়ার সময় বলে, 'আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, আব্দিকা ওয়া রাসুলিকা, ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি, ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।' কারণ এটি তার জন্য জাকাত স্বরূপ। (আল-আদাবুল মুফরাদ : ৬৪৪)।
পাঁচ. রুয়াইফি ইবনে সাবেত আনসারি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দরুদ পড়বে, তার জন্য সুপারিশ সুনিশ্চিত হয়ে যাবে: 'আল্লাহুম্মা আনজিলহুল মাক আদাল মুকার রাবা ইন্দাকা ইয়াওমাল কিয়ামাহ'। (মিশকাতুল মাসাবিহ : ৯৩৬)।





