জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই মাস এলেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়, কিন্তু বছরের বাকি সময়ে তাদের কোনো খোঁজ রাখা হয় না। শনিবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আলোর পথযাত্রী’ শীর্ষক স্মরণসভায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শহীদুল ইসলাম বলেন, “জুলাই এলেই সবাই আমাদের ডাকেন বিভিন্ন প্রোগ্রামে। আমাদের ছেলে জীবন দিয়েছে শুধু আমাদের শো-অফ করানোর জন্য নয়। আমরা শো-অফে অভ্যস্ত হতে চাই না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার বা খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেও এখন পর্যন্ত শহীদ পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা বা তাদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কোনো খোঁজ নেননি, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের ওপর রাজনৈতিক দলের ট্যাগ দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারগুলো যেতে বাধ্য হন, আর তখনই রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তাদের ওপর ‘বিরোধী দল’ বা ‘সরকারি দল’—এমন ট্যাগ লাগিয়ে দেন।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি ফারহান ফাইয়াজকে প্রকৃত বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। তিনি তরুণদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, এই বীরত্ব চিরকাল স্মরণ রাখতে হবে।
কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাবের হোসেন শিক্ষার্থীদের ফারহান ফাইয়াজকে আদর্শ হিসেবে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। স্মরণসভায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সাদাত রহমান তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ফারহানকে কলেজের নক্ষত্র হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া ফারহানের তৎকালীন শ্রেণিশিক্ষক নজরুল ইসলাম তার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। অনুষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীরা গান ও কবিতার মাধ্যমে ফারহান ফাইয়াজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ফারহান ফাইয়াজ শহীদ হন।




