পরীক্ষায় ফেল করেও যারা বিশ্বজয় করেছেন অনন্য উচ্চতায়

প্রকাশ:

অনেকেই মনে করেন, ক্লাসে ফেল করা মানেই জীবনের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। কিন্তু ইতিহাস বলছে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ব্যর্থতা বা পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল কোনো মানুষের সফলতার অন্তরায় নয়। বরং অনেক বিশ্বসেরা ব্যক্তিত্ব তাদের জীবনের ব্যর্থতাকে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করে আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন। তাদের এই দীর্ঘ পথচলা প্রমাণ করে যে, জীবনে সফল হওয়ার জন্য কেবল ডিগ্রি বা নম্বর নয়, বরং প্রয়োজন সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, অদম্য সাহস এবং কঠোর পরিশ্রম।

চীনের বিখ্যাত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা এর জীবনের শুরুটা ছিল কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় গণিতে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ১ নম্বর। তিনবার চেষ্টা করেও ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। এমনকি চাকরির ক্ষেত্রেও তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বারবার। কেএফসিতে চাকরির আবেদন করে ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জন চাকরি পেলেও বাদ পড়েছিলেন কেবল তিনিই। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। ১৮ জন সহযোদ্ধাকে নিয়ে নিজের বাড়ি থেকে শুরু করেছিলেন আলিবাবা। আজ সেই প্রতিষ্ঠানটি একটি বৈশ্বিক শক্তি এবং তিনি নিজে তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে এক জীবন্ত কিংবদন্তি।

অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস কলেজে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করেননি। গ্যারেজে বসেই মাত্র ২০ বছর বয়সে তৈরি করেছিলেন অ্যাপল। তাকে তার নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান থেকেও একসময় বের করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকবুকের মতো উদ্ভাবনী প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে তার দূরদর্শী চিন্তা। একইভাবে বিল গেটস হার্ভার্ডে ভর্তি হয়েও তা শেষ করেননি, বরং গড়ে তুলেছেন মাইক্রোসফট। তিনি ডিগ্রি নয়, বরং উদ্ভাবন ও সাহসের মাধ্যমে বিশ্বকে বদলে দিয়েছেন।

ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পপতি ধীরুভাই আম্বানির স্কুলজীবন ছিল একেবারেই সাধারণ। পড়াশোনা বেশিদূর এগোয়নি, কিন্তু ঝুঁকি নেওয়ার সাহস আর বুদ্ধিমত্তা তাকে একটি ছোট দোকান থেকে ভারতের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক বানিয়েছে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সফল প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল স্কুলজীবনে ছিলেন একজন খারাপ ছাত্র। শিক্ষকরা বলতেন তিনি কিছুই করতে পারবেন না, অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটেনকে নেতৃত্ব দিয়ে রক্ষা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে নোবেল পুরস্কারও অর্জন করেছিলেন।

শিক্ষাগত ব্যর্থতা অনেকের জীবনে বড় ধাক্কা হতে পারে, কিন্তু এটিই জীবনের শেষ কথা নয়। আপনি পরাজয়ের পর কী করলেন এবং ব্যর্থতা থেকে কী শিখলেন, সেটাই আপনার ভবিষ্যতের ভিত্তি। যারা নিজের স্বপ্নে বিশ্বাস রাখে এবং পরিশ্রমে ক্লান্ত হয় না, তারাই একদিন বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।

শেয়ার করুন