প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম। ফ্যাশন সচেতন নারীদের কাছে হাই হিল দীর্ঘদিন ধরেই সৌন্দর্য, স্টাইল ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। পার্টি, অফিস কিংবা বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে হাই হিল অনেকের সাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের (এনসিবিআই) এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই জনপ্রিয় ফ্যাশন অনুষঙ্গটি দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষকদের মতে, উঁচু হিল পরে হাঁটার সময় শরীরের স্বাভাবিক গতি কমে যায় এবং ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এর ফলে হাঁটু, কোমর ও মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে এই শারীরিক অস্বস্তি ও চাপ বহন করতে হলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ এমনকি অবসাদের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়মিত হাই হিল ব্যবহারকারীরা ফ্ল্যাট জুতো ব্যবহারকারীদের তুলনায় পিঠের ব্যথা ও মানসিক চাপের সমস্যায় বেশি ভোগেন। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার কারণে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা উদ্বেগের অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরামদায়ক পোশাক ও জুতো ডোপামিন নিঃসরণ বাড়িয়ে ইতিবাচক অনুভূতি ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু হাই হিলের কারণে নিয়মিত ব্যথা বা শারীরিক চাপ তৈরি হলে সেই ইতিবাচক অনুভূতি ধীরে ধীরে নেতিবাচকতায় রূপ নিতে পারে। তবে হাই হিল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিছু সতর্কতা মেনে চললে এর ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
খুব বেশি উঁচু ও সরু হিলের পরিবর্তে চওড়া ও মাঝারি উচ্চতার হিল ব্যবহার করলে পায়ের ওপর চাপ কম পড়ে এবং ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। এছাড়া প্রতিদিন হাই হিল ব্যবহার না করে বিশেষ অনুষ্ঠান বা অফিস মিটিংয়ের মতো প্রয়োজনীয় সময়ে সীমিত সময়ের জন্য এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পায়ের পেশি ও গোড়ালি শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত স্ট্রেচিং ও ব্যায়াম করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ফ্যাশনের সঙ্গে আরামের ভারসাম্য বজায় রাখাই সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।





