শপথ গ্রহণের পর থেকে রাজধানীর রাস্তায় পুলিশি প্রহরায় চলাচলকারী ১৮ জন মন্ত্রীর বিশেষ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। তবে ঢাকার বাইরে সরকারি সফরে গেলে সব মন্ত্রীর জন্যই প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা ও প্রহরা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
বর্তমানে রাজধানীতে এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন ছয়জন মন্ত্রী এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার একজন উপদেষ্টা। এই তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন; পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। যদিও কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই সাতজনকে নির্বাচিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, প্রয়োজনের ভিত্তিতেই তাদের সুবিধাটি বহাল রাখা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে মন্ত্রীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত প্রায় ৯০ জন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ১২০ জন পুলিশ সদস্য এ কাজে যুক্ত ছিলেন, এখন সেখানে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া এসকর্ট গাড়ির সংখ্যা ২৫টি থেকে কমিয়ে সাতটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিটি এসকর্ট গাড়িতে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল থাকে, যারা মন্ত্রীর চলাচলের সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে জ্বালানি সাশ্রয়, পুলিশের যানবাহনের স্বল্পতা এবং প্রটোকলের বহর ছোট করার মতো একাধিক কারণ রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিজের প্রটোকল থেকে পুলিশের দুটি গাড়ি কমিয়ে এনেছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে মোটর শোভাযাত্রার পাইলট হিসেবে মোটরসাইকেলে চারজন সদস্য নিয়োজিত থাকছেন।
ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলম জানান, এসকর্ট কমানোর ফলে জ্বালানি খরচের পাশাপাশি গাড়ি ও জনবলের ওপর চাপ কমবে। এর মাধ্যমে মুক্ত হওয়া জনবল ও গাড়ি রাজধানীর নিয়মিত পুলিশি কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।





