বদির পরিকল্পনায় কাউন্সিলর একরামকে হত্যা করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশ:

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা তৎকালীন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। রোববার শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নেওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদের এবং আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। আমিনুল ইসলাম বলেন, একরামুল হক বদির প্রতিপক্ষ ছিলেন এবং হত্যার পর তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছিলেন বদি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের মতের বিরুদ্ধে গেলেই বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে টার্গেট করে অপহরণ, আয়নাঘরে বন্দি অথবা ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হতো।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে আট পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকা আবদুর রহমান বদি ও অন্যান্যদের হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ধার্য করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান। চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্যমতে, রুহুল আমিন ও আশেকুর রহমান সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন এবং মিফতাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য র‍্যাব কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ও পরিকল্পনায় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন কাউন্সিলর একরামুল হক। ঘটনার সময় তার স্ত্রী ও মেয়েরা মোবাইল ফোনে গুলির শব্দ ও একরামের কথোপকথন শুনতে পেয়েছিলেন। পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ও শেখ হাসিনা একরামের স্ত্রীকে ডেকে ঘটনাটি নিয়ে উচ্চবাচ্য না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একরামের মৃত্যুর পর তাকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে র‌্যাব বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছিল, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে র‌্যাবের সাত কর্মকর্তা।

সেখানে বেশ কয়েকজন আসামি ইতোমধ্যে গ্রেফতার আছে, তাদেরকে শোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে এবং যারা পলাতক আছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেওয়া হয়েছে। সেই মামলাটিও আগামী ২৫/৮/২৬ তারিখে আপনার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে র‌্যাবের কথিত বন্দুক যুদ্ধে মারা যান টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হক। পরে র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী’ এবং ‘ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার’ আখ্যায়িত করে বলা হয়েছিল, একরামের বিরু

শেয়ার করুন