সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের গঠিত বিশেষ কমিটি আজ মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছে। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির মূল দায়িত্ব হলো সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য সুপারিশ প্রণয়ন করে সংসদে রিপোর্ট পেশ করা। তবে এখন পর্যন্ত কমিটির কর্মপরিকল্পনা, কাজের ধরণ এবং কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি। আজকের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রথম বৈঠকে তারা নিজেদের কর্মকৌশল নির্ধারণ করবেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি আরও জানান, কমিটি সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং সব স্তরের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, জনমত জরিপসহ বিভিন্নভাবে নেওয়া মতামতের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই কমিশন বিস্তারিত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। এরপরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে পেশ করা হবে, যার ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় বিল আনবে এবং পরবর্তীতে সংসদে তা নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হবে।
কমিটির কাজের পরিধি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদে থাকা ৪৮টি সাংবিধানিক প্রস্তাব এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয়গুলো কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা কাটেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি হয়েছিল। বিএনপি এই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও, এর কিছু প্রস্তাব নিয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে।
বিরোধী দল এই কমিটি গঠনের শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। কমিটি গঠনের দিনই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের ধারণাগত মতপার্থক্য রয়েছে। সরকারি দল বিরোধী দলকে কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তারা কোনো নাম দেয়নি।
কমিটি কি জুলাই সনদের ৪৮টি প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে, নাকি বিএনপির ইশতেহারকে প্রাধান্য দেবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, সংবিধান সংস্কারে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সে মতে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, বিশেষ কমিটি তাদের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়গুলোকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করে।




