ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে হুমকি প্রদান এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে বিমানবন্দর থানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে নির্বাহী পরিচালক সেখানে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও এজাহারের বিবরণ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরবর্তীতে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। এজাহারে বলা হয়, নির্বাহী পরিচালক অত্যন্ত শান্তভাবে যাত্রীদের চাপ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করলে আখতারুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি অশালীন ভাষা ব্যবহার করে বলেন, ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘গেইট আউট ফ্রম হিয়ার’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব’, ‘কাজ জানেন না’। এছাড়া তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্পর্কে অত্যন্ত অবমাননাকর মন্তব্য করে বলেন, ‘হি ইজ এ বাস্টার্ড। বিমানবন্দরের জন্য কিছুই করছে না।’ সেসময় বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর বাড়তি চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি পরে লাগেজ আসতে বিলম্ব হওয়া এবং জমজমের পানি না আসায় ‘উত্তেজিত’ হয়ে পড়েন এবং ‘অশোভন আচরণ’ করেন। এসময় তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান ‘অত্যন্ত রূঢ়, অশালীন ও অকথ্য ভাষায়’ গালিগালাজ করতে থাকেন। তখন অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান অতর্কিতে ওয়ারেন্ট অফিসার কামাল উদ্দিনের কাছে গিয়ে তাকে ‘অকথ্য ভাষায়’ গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।
নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি ও মারধরের অভিযোগ
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। বিমানবন্দরের কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণ নিষেধ করা হলে দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে আখতারুজ্জামান মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার বর্ণনায় বলা হয়, এসময় তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে বিমানবন্দরে বেঁধে পিটানো এবং সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া দরকার, যাতে তারেক রহমান এটি দেখেন, তখন আপনারা সোজা হবেন। আপনাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব।’ পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যান। এই মারধরের ঘটনাটি সিসিটিভির আওতাভুক্ত না থাকলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে এর সত্যতা প্রমাণিত হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে বিমানবন্দরের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান ও ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে তিনি বিএনপি থেকে কটিয়াদী আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে ওই একই আসনে তার ছোট ভাই আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবার আসনটিতে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েন তার ছোট ভাই আনিসুজ্জামান খোকন, যিনি বিএনপি থেকে ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহ-১৯ আসনের এমপি হয়েছিলেন। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন।





