ভারতের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি ও আরএসএস নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য বর্তমানে বড় এক অস্বস্তির নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। মাত্র দুই মাসের বেশি সময় আগে ১৬ মে অনলাইনে যাত্রা শুরু করা এই দলটি ৩৬ দিন টানা শিক্ষা ও নেট-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে গত ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনাকে অনেকে বিস্ময়কর হিসেবে দেখছেন। যদিও আন্দোলনটি আপাতত স্থগিত, তবুও মোদি ও অমিত শাহসহ বিজেপি নেতৃত্ব এটিকে তাদের জন্য সিঁদুরে মেঘ হিসেবে দেখছেন।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও কৌশলবিদ অভিজিৎ তিরপে। সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে ৬ জুনের জনসভা, যা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ১৫ জুন তিনি হামলার শিকার হওয়ার পর দলটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাদের জনসভাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছে, যা মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুকের অনশন সংহতি এবং সংসদ অভিযানে পুলিশি বর্বরতা সত্ত্বেও দলটির লড়াই থামেনি। শিক্ষার দুর্নীতি, জাতীয় স্তরে অধ্যাপক নিয়োগের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসসি পরীক্ষার স্ক্যামের বিরুদ্ধে তাদের সোচ্চার ভূমিকা সাধারণ ছাত্র-যুবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দলটির উত্থানের পেছনে রয়েছে বেকারত্ব, সরকারি চাকরির অনিশ্চয়তা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। এর ওপর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এক মন্তব্য—যেখানে তিনি প্রতিবাদী যুবসমাজকে ‘ককরোচ’ বলে অভিহিত করেছিলেন—তা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে। এই অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে কোটি কোটি যুবক ইন্টারনেটে সংগঠিত হয়েছে। দলটির এই জনপ্রিয়তা কেবল যুবসমাজ নয়, বরং কৃষক ও খেতমজুরদেরও প্রভাবিত করছে। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলনের সাথে ককরোচ জনতা পার্টি যুক্ত হলে তা সরকারের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সত্তরের দশকে জনতা পার্টির উত্থান বা পরবর্তীতে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টি কেবল একটি ইস্যুভিত্তিক দল হিসেবে থাকবে নাকি জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ পাল্টে দিতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তারা কি কেবল একাডেমিক পরীক্ষার শুদ্ধতার দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের বিকল্প হয়ে উঠবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়। তাদের পরবর্তী কৌশল এবং দেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সমীকরণই নির্ধারণ করবে ক্ষমতার প্রাচীরে তারা কতটা আঘাত হানতে সক্ষম হবে।





