রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের এক দিন পার হতে না হতেই ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই সংগঠনই একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেছে। তবে বেলা দুইটা পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলী জানিয়েছেন, গতকাল সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুদ রানাকে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর মো. আব্দুল্লাহ-আল-মাহবুবকে সদস্যসচিব করে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিজয় ২৪ হল প্রাধ্যক্ষ মো. আমির শরীফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তানজিউল ইসলাম এবং রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন-আল রশীদ।
গতকাল সোমবার বিকেলে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে কিছু ছবি প্রদর্শন ও তা অপসারণকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ক্যাম্পাসের আবু সাঈদ চত্বরে দুই সংগঠনই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।
মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, বিকেল ৪টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে। অন্যদিকে, মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সামছুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের হামলায় প্রতিবাদে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে তারা লালবাগ চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে আবু সাঈদ চত্বরে জড়ো হবেন। একই স্থানে কর্মসূচি দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান তাজহাট থানায় ১৪৪ ধারা জারির জন্য আবেদন করেছেন। তিনি জানান, ক্যাম্পাসের পরিবেশ বর্তমানে শান্ত থাকলেও বিকেলের কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ১৪৪ ধারা এখনো জারি হয়নি, তবে যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে ৪ আগস্ট থেকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের যানবাহন ও দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।





