বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ, বিএনপির দোয়া মাহফিল

প্রকাশ:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন শনিবার, ১৫ আগস্ট। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা খালেদা জিয়া ছিলেন এস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদার দম্পতির তৃতীয় সন্তান। মৃত্যুর পর এটিই তার প্রথম জন্মদিন।

জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপি এবারও কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন রাখেনি। দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ঢাকাসহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া বিকেলে ঢাকা-১৭ আসনের মহাখালী কড়াইল বস্তি এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে অনুদান বিতরণ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। বগুড়ার শিবগঞ্জেও উপজেলা বিএনপির তিন দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়াবালা গরীবপুর গ্রামের বায়তুল মামুর জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর এটি খালেদা জিয়ার তৃতীয় জন্মদিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট তিনি স্থায়ী মুক্তি পান। উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ১৫ আগস্টে কেক কেটে জন্মদিন পালনের পরিবর্তে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করে আসছে। দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগে চিকিৎসাধীন থাকা খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন এবং পরে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন ঘটে ১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন এবং পরে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সব মিলিয়ে তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী ও দুবার সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়াও ১৯৯৩ সালে সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

ওয়ান-ইলেভেনের পর ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি কারাবন্দি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। এরপর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির দুই মামলায় কারাগারে যান তিনি। করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি পেয়ে তিনি গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এবং অসুস্থতার কারণে তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

শেয়ার করুন