সৌদি আরবে গুলি করে বাংলাদেশি যুবককে হত্যা, আততায়ীর আত্মহত্যা

প্রকাশ:

সৌদি আরবের তায়েফ শহরে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. কামরুল জামান (৩৭)। গত রোববার ভোরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। কামরুলের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় কামরুল তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে স্ত্রী তাঁর স্বামীর ‘মা গো, মা গো’ চিৎকার শুনতে পান এবং এরপরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সৌদি আরবে অবস্থানরত স্বজনদের বরাতে পরিবারের সদস্যরা জানান, কথা বলার সময় এক ব্যক্তি কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে একটি বিপণিবিতানে আশ্রয় নিলেও অস্ত্রধারী সেখানে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর ওই হামলাকারী নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কামরুলের চাচাতো ভাই মো. সোলেমান জানান, কামরুল তায়েফ শহরের একটি বিপণিবিতানে চাকরি করতেন। ডিউটি শেষে বিপণিবিতানের সামনে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় এক সৌদি তরুণ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কামরুল ভেতরে ঢুকে পড়লে সেখানে তাকে তিনটি গুলি করা হয়। কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আড়াই বছর আগে জীবিকার সন্ধানে কামরুল সৌদি আরবে পাড়ি জমান। কৃষক বাবার সন্তান কামরুল ধারদেনা করে বিদেশ গিয়েছিলেন এবং সেই ঋণ এখনো পুরোপুরি শোধ করতে পারেননি। কুতুবপুর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু নাসের চৌধুরী জানান, কামরুলের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে এখনো নেই।

শেয়ার করুন