বাংলাদেশ-সৌদি সরাসরি ফ্লাইট ৪৯ থেকে বেড়ে ৮৪

প্রকাশ:

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগের পরিধি বড় হচ্ছে। দুই দেশ সম্প্রতি সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। এই নতুন বিমান চলাচল ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে সপ্তাহে পরিচালিত ৪৯টি ফ্লাইটের পরিবর্তে ৮৪টি ফ্লাইট যাতায়াত করবে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসিএ) মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সৌদি সফর শেষে দেশে ফেরার পর বেবিচক সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান। তিনি জানান, নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ৫ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের মধ্যে বিমান ভ্রমণের দীর্ঘদিনের চাপ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেবিচক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিশেষ করে হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা অনেক বেশি নির্বিঘ্ন হবে। উল্লেখ্য, এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন। এছাড়া বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ বাংলাদেশি যাত্রী তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরব যাতায়াত করেন, যাদের সরাসরি ফ্লাইটের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে প্রবাসীদের ভ্রমণের সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হবে।

নতুন এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে 'ফিফথ ফ্রিডম' ট্রাফিক অধিকার অর্জন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। এর মধ্যে স্পেনের জারাগোজা ও জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট অন্যতম। একইভাবে সৌদি আরবও চীনের দু'টি গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের অধিকার পেয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এই ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এর মাধ্যমে ইউরোপের বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে পণ্য পরিবহন আরও দক্ষ ও সহজ হবে, যা লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি অর্থনীতিকে সহায়তা করবে।

শেয়ার করুন