১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের উপকূলীয় বালুতে মূল্যবান খনিজ অনুসন্ধানে পরমাণু শক্তি কমিশন

প্রকাশ:

দেশের নদী ও উপকূলীয় বালুতে থাকা মূল্যবান খনিজের সম্ভাবনা যাচাই করার লক্ষ্যে নতুন করে অনুসন্ধানে নামছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি)। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভোলা, পটুয়াখালী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বালুর নমুনা সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত নমুনার ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি খনিজের ধরন, পরিমাণ ও মান যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে এসব খনিজ আলাদা করা এবং শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী করার প্রযুক্তি নিয়েও দুই পক্ষ যৌথভাবে গবেষণা চালাবে।

এই গবেষণার কাজে বেসরকারি অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড (ইএমএল)। মঙ্গলবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিএইসি ও এভারলাস্টের মধ্যে তিন বছরের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বিএইসির চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং এভারলাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসাইন টিটু নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড অবশ্য বাংলাদেশে খনিজ বালু নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে নতুন নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২০ জুন খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ১০ বছরের একটি ইজারা চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তির আওতায় গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকা ও চর এলাকার তিনটি ব্লকে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে ভারী খনিজ বালু নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০৩৪ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত ওই চুক্তির মেয়াদ রয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুড়িগ্রামে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর এলাকায় খনিজ অনুসন্ধানের লাইসেন্স পেয়েছে তারা। নতুন এই সমঝোতার মাধ্যমে এবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাতেও তাদের গবেষণার সুযোগ তৈরি হলো।

গবেষণার অংশ হিসেবে ইলমেনাইট, রুটাইল, জিরকন, গারনেট ও ম্যাগনেটাইটের মতো ভারী খনিজের উপস্থিতি ও গুণমান পরীক্ষা করা হবে। জিরকন সিরামিক, স্যানিটারি ও কাচ শিল্পে এবং ইলমেনাইট থেকে উৎপাদিত টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড রং, প্লাস্টিক ও কাগজ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিএইসির পক্ষে এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করবে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস (আইএনজিএস)। কমিশনের নিজস্ব গবেষণাগারে নমুনা বিশ্লেষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে এভারলাস্ট আধুনিক হাইড্রলিক কোর ড্রিল রিগ ও নৌযান সরবরাহ করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রাকৃতিক সম্পদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে ১৯৬৭ সাল থেকে বিএইসি উপকূলীয় এলাকায় খনিজ নিয়ে কাজ করছে এবং কক্সবাজার উপকূলে ১৭টি ভারী খনিজের মজুদের তথ্য রয়েছে। নতুন এই সমঝোতা কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি নয়, বরং দেশের খনিজ বালুর গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রয়াস। তিন বছর মেয়াদি এই সমঝোতা পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে নবায়নযোগ্য।

শেয়ার করুন