সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসিরা

প্রকাশ:

কানসাস স্টেডিয়ামে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। দীর্ঘ ১১২ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে রুখে দিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। এই ম্যাচে একটি লাল কার্ড খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সুইজারল্যান্ডকে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে বাধ্য করে। সুইসদের এই রক্ষণাত্মক ভঙ্গি অনেকটা ট্রেনিং ক্যাম্পের মতো মনে হচ্ছিল, যেখানে পুরো ৪০ মিনিট ধরে খেলা চলেছে তাদের গোলবক্স ঘিরেই। লিওনেল মেসি মাঠজুড়ে বলের জোগান দিয়ে জয় পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ছিলেন। ৩৯ বছর বয়সেও তার অনবদ্য পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।

ম্যাচের শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। ১০ মিনিটের মাথায় মেসির কর্নার থেকে ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এরপর ৬৭ মিনিটে রদ্রিগেজের পাস থেকে ড্যান এনদোয়ে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান। তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এমবোলো। রেফারির সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ডাইভ দেওয়ার দায়ে ফিফার নতুন আইন অনুযায়ী তাকে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়।

এমবোলোর বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আর্জেন্টিনার হাতে চলে যায়। ১১২ মিনিটের মাথায় ২৫ গজ দূর থেকে হুলিয়ান আলভারেজ গোল করে সুইসদের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। এরপর কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লাউতারো মার্তিনেজ আরও একটি গোল করেন। দশজন নিয়ে যেভাবে সুইসরা লড়াই করেছে, তা বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, ৭২ বছর আগে সুইজারল্যান্ড সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল।

আর্জেন্টিনা এখন সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়। ‘৮৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি ও তিক্ত অভিজ্ঞতার বদলা নেওয়ার সুযোগ এখন ইংল্যান্ডের সামনে। আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দলগুলোর টিকে থাকা প্রমাণ করে যে শিরোপার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ২০২২ সালে মেসির হাতে ট্রফি উঠেছিল, এবার কী হবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই জল্পনার অবসান ঘটবে।

শেয়ার করুন