সেমিফাইনালে দীর্ঘ দুই দশক পর মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড

প্রকাশ:

দীর্ঘ দুই দশক পর বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক বৈরিতার ইতিহাস এই ম্যাচটিকে ঘিরে তৈরি করেছে বাড়তি উত্তেজনা। বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় জর্জিয়ার আটালান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। এই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে।

আর্জেন্টিনার সাফল্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সি মহাতারকা লিওনেল মেসি। গত বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর পর এবারও তিনি দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করা মেসি গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন। মেসির এই শেষ বিশ্বকাপটি স্মরণীয় করে রাখতে পুরো দল মরিয়া। তবে আর্জেন্টিনার শক্তির জায়গা কেবল মেসি নন, দলের মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পল, এনজো ফের্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক এলিস্টার ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের মাঝমাঠকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখেন।

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি গতবারের স্কোয়াড নিয়েই এবার মাঠে নেমেছেন। তবে দলের রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর ভুল করার প্রবণতা এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজের এরিয়াল বলের দুর্বলতা আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এই দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া জোনাল মার্কিংয়ের কারণে দ্রুত গতির ফরোয়ার্ডদের সামলাতে দলটিকে হিমশিম খেতে হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে কোচ স্কালোনি ৩-৫-২ বা ৪-২-৩-১ ফরমেশন নিয়ে ভাবছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে হ্যারি কেইনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড দল এবার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের জুটি এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ১৩টি গোলের মধ্যে ১২টিতেই অবদান রেখেছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো জুটির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। বেলিংহ্যাম টানা দুই নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করে ১৯৮৬ সালের পর দিয়েগো মারাদোনার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন। এছাড়া আর্সেনালের ডেকলান রাইস এবং তরুণ স্ট্রাইকার এন্থনি গর্ডন দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখছেন।

জার্মান কোচ টমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড দল মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে আসছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে ১০ জনে খেলেও ৩-২ জয় এবং নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে জয় তাদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ। তবে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পারফরম্যান্স মাঝে মাঝে নড়বড়ে মনে হয়েছে। টানা অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ খেলার কারণে উভয় দলই কিছুটা ক্লান্ত হতে পারে, যা এই সেমিফাইনালে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

শেয়ার করুন