আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে চলে যান, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তারা অনাদিকাল বেঁচে থাকেন। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.) তেমনই একজন মানুষ। তিনি এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের সূরা ফুসসিলাতের ৩৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন, যেখানে আল্লাহ বলেন, 'তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত'।
ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি এ জনপদের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। শহরের মঞ্চ থেকে গ্রামের ধুলোমাখা ময়দান—সবখানেই তিনি আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এবং কুরআনের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়েও তার বিচরণ ছিল সমান তালে। তীব্র শীতের রাতে খোলা মাঠে চাদর মুড়ি দিয়ে বসে থাকা লাখ লাখ মানুষ তার কণ্ঠে কুরআনের তাফসির শুনেছেন, যার মাধ্যমে বহু মানুষের ধর্মীয় জীবনের মোড় ঘুরে গিয়েছিল। সহিহ বুখারির হাদিসের আলোকে তিনি বলেন, 'তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়'। আল্লামা সাঈদীর জীবনের বড় একটি অংশই কেটেছে কুরআন শিক্ষা, কুরআন শেখানো এবং কুরআনের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে। তিনি নানা উদ্যোগ ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তার ওয়াজের ময়দান হয়ে উঠেছিল অসংখ্য মানুষের ধর্মীয় শিক্ষার পাঠশালা।
জামায়াত আমির আরও বলেন, মানুষের ভালোবাসা তাকে তাফসিরের ময়দান থেকে জাতীয় সংসদে নিয়ে গিয়েছিল। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ, আলিয়া ও কওমি মাদরাসা শিক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নানা দাবি নিয়ে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন। সংসদে স্পিকারের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে ঢোকার যে শিরকি রীতি ছিল, আল্লামা সাঈদীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তা বন্ধ হয়েছিল। তার রাজনীতি ও মতাদর্শ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তার বিপুল অনুসারী আর জনসমর্থন এ দেশের ধর্মীয়-রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অস্বীকার করার উপায় নেই এমন বাস্তবতা।





