মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল চাঁদপুর সরকারি কলেজের পরিত্যক্ত ছাত্রাবাস

প্রকাশ:

চাঁদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিষ্ণুদী সড়কের পাশে অবস্থিত চাঁদপুর সরকারি কলেজের শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসটি এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৯৭৭ সালে শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করা এই ছাত্রাবাসটি দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, অবকাঠামোগত জরাজীর্ণতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০১৯ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মতে, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাবে এটি বর্তমানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, দিনের তুলনায় রাতের বেলায় সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই নির্জন পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে মাদক বেচাকেনা ও সেবনের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যা সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস মসজিদের মুসল্লি আব্দুল মান্নান জানান, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায়। মাদকাসক্তদের চিৎকার-চেঁচামেচি ও সন্দেহজনক আচরণে স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে জায়গাটি অপরাধীদের জন্য নিরাপদ স্থানে রূপ নিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সিয়াম হোসেন ও ফয়সাল আহমেদ জানান, আবাসন সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের মতে, ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে না রেখে নতুন ও আধুনিক ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হলে একদিকে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধান হবে, অন্যদিকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বন্ধ হবে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম আবদুল মান্নান জানান, ভবনটি এত দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করা সঠিক ছিল না, কারণ নিচতলার অংশটি ব্যবহার উপযোগী ছিল। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ছাত্রাবাসের পুরো এলাকা নির্জন হয়ে পড়ায় বহিরাগতরা সেখানে মাদক সেবনের অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এছাড়া টুকাইসহ কিছু মাদকসেবী ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে পাহারাদার নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন