উইলস লিটল ফ্লাওয়ারে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মেনন গ্রেপ্তার

প্রকাশ:

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন। এর আগে গত ৩০ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন।

২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর দুদক কর্তৃক দায়ের করা এই মামলায় রাশেদ খান মেননসহ মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে প্রতারণা ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার না থাকলেও স্কুলটিতে অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। এই বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তার কোনো প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষককে রাখা হয়নি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত এনটিআরসিএ সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করার মতো গুরুতর অনিয়মের তথ্যও মামলার অভিযোগে রয়েছে।

এই মামলায় রাশেদ খান মেনন ছাড়াও অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন ও জহিরুল ইসলাম খা। এছাড়া শিক্ষক শ্যামলী হোসেন, মাহমুদা সুলতানা, আয়শা সিদ্দিকা, নাসরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, তুহিন বিশ্বাস, মো. বজলুর রহমান, মো. রাসেল, মো. হারুন-অর-রশিদ খান, মো. মোশারফ হোসেন, উৎপল বিশ্বাস, এ কে এম মাসুদ রানা ও মো. আরিফুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পুলিশ রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে এবং এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

শেয়ার করুন