২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যয়ের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি খাতের করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ (অর্থনৈতিক কোড ৩৯১১১১১ ও ৪৯১১১১১) থেকে ব্যয় বন্ধ রাখা হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে কেনাকাটা করা যাবে। এক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া অন্য সব জিপ ও কার অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক হতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য, তবে আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নতুন আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণ আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে যেসব প্রকল্পের অন্তত ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমতি নিয়ে ব্যয় করা সম্ভব। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ঋণ প্রদানও স্থগিত করা হয়েছে।
বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশি সরকারের বৃত্তি বা ফেলোশিপের আওতায় উচ্চশিক্ষা এবং তাদের অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণ বা কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বিদেশ অংশ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পণ্য জাহাজীকরণের পূর্বপর্যায়ের পরিদর্শন বা কারখানায় গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জটিল পণ্য বা বাধ্যতামূলক পরিদর্শনের প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, যেখানে আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।





