সকাল থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন মাঠজুড়ে শুরু হয় কৃষকদের কর্মযজ্ঞ। ভালো ফলনের প্রত্যাশায় হাতে দাওলি ও সকালের নাশতা নিয়ে মাঠে হাজির হচ্ছেন কৃষক ও কিষানিরা। জেলার সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন ধানের জমিতে আগাছা দমন, সার প্রয়োগ ও নিড়ানির কাজ চলছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সাম্প্রতিক বৃষ্টির ফলে ধানের পাশাপাশি আগাছা দ্রুত বেড়ে ওঠায় কৃষকদের বাড়তি সময় ও শ্রম দিতে হচ্ছে।
কৃষকদের মতে, সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করলে তা ধানগাছের পুষ্টি, সার ও পানির বড় অংশ শোষণ করে নেয়, যার ফলে ধানগাছ দুর্বল হয়ে ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই চারা বেড়ে ওঠার পরপরই নিয়মিত নিড়ানির মাধ্যমে জমি পরিষ্কার রাখছেন তারা। সদর উপজেলার কৃষক আবদুর রহমান জানান, বৃষ্টির পর আগাছা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাই ভালো ফলনের আশায় বাড়তি শ্রম দিয়েও জমি পরিষ্কার রাখা জরুরি। একইভাবে শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আমন মৌসুমে কয়েক দফায় আগাছা পরিষ্কার করতে হয়, কারণ আগাছা ধানগাছের সঙ্গে পুষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা করে।
গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলার কৃষকরাও একই ধরনের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ভোলাহাটের কৃষক মো. শালেক আশা প্রকাশ করেন যে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে এ বছর কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে। তবে কৃষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় উৎপাদন খরচ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বাড়তি ব্যয় হলেও ফসলের সুরক্ষায় তারা পরিচর্যায় কোনো গাফিলতি করছেন না।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাকলাইন হোসেন কৃষকদের নিয়মিত জমি পরিদর্শন, সুষম সার প্রয়োগ ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম জানান, সঠিক সময়ে আগাছা দমন ও সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। কৃষকদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে।





