ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই হুঁশিয়ারি দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়নি। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং তাদের নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। যদিও এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন চীন, ভারত, তুরস্ক, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে। ইরান ইতোমধ্যেই মার্কিন চাপের মুখে তাদের তেল রপ্তানি কমাতে বাধ্য হয়েছে, যা তাদের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের ওপরও প্রভাব ফেলেছে।
বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের অর্থপাচারে সহায়তাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ একটি নির্দিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, তবে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম তিনি প্রকাশ করেননি। চীনা ব্যাংকগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য ও তেল রপ্তানি আরও চাপে পড়বে, পাশাপাশি চীন, ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে।





