আর্থিক খাতে নজিরবিহীন লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেড’-এর অনুকূলে ৩২ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ ছাড়ের বিশেষ অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে অনুমোদিত একটি বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের অংশে থাকা অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৮ কোটি টাকা) ছাড়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রেও আইনি শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বিতর্কিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দিলেও এর কোনো আর্থিক বা আইনি দায় নেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই ঋণের টাকা আদায় না হলে বা খেলাপি হয়ে পড়লে রূপালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে না। অর্থাৎ, বিতর্কিত গ্রুপের প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের রাস্তা সহজ করে দেয়া হলেও সম্পূর্ণ ঝুঁকির বোঝা রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
গতকাল ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এসএস পাওয়ার-১-এর অনুকূলে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে একই আইনের ২৭কক (৩) ধারার বিধিনিষেধ থেকে বিশেষ অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সাধারণ নিয়মে কোনো একক গ্রাহক বা গ্রুপের সার্বিক খেলাপি স্থিতি ও ঋণসীমা (সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার লিমিট) অতিরিক্ত হলে নতুন করে এলসি বা ঋণ সুবিধা দেয়া নিষিদ্ধ। তবে বিশেষ ক্ষমতার বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই আইনি বাধ্যবাধকতা শিথিল করেছে।





