অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ অজি মিডিয়া

প্রকাশ:

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশটির সংবাদমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বাংলাদেশের দাপুটে জয়কে কেউ অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে দেখছে, আবার কেউ এটিকে ঘরের মাঠে তাদের সবচেয়ে লজ্জাজনক পরাজয়গুলোর একটি বলে অভিহিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাবেক ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের ব্যাটিং, বোলিং, শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা ও দলীয় পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

সেভেন নিউজ বাংলাদেশের জয়কে ঐতিহাসিক হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় ধারাভাষ্যকার টিম লেনের মন্তব্য উদ্ধৃত করেছে, যিনি ডারউইনের এই জয়কে ‘বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অসাধারণ মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। এবিসির ম্যাচ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয় এবং পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ডেইলি টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের এই জয়কে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, ম্যাচের ১১টি পর্বেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে কার্যত পেছনে ফেলেছে। ফক্স স্পোর্টসও এই জয়কে বড় অঘটন হিসেবে দেখে অস্ট্রেলিয়া দলের পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

দ্য অস্ট্রেলিয়ান-এর প্রতিবেদনে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশ তাদের ছাড়িয়ে গেছে। সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং এই পরাজয়কে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়ে দলে পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। একই সুর শোনা গেছে সাবেক অধিনায়ক ম্যাথিউ হেইডন ও সাবেক তারকা মার্ক ওয়াহর কণ্ঠেও। ডারউইনে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু একটি ম্যাচই জেতেনি, বরং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের বর্তমান কাঠামো, দল নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৯৮ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট হয়। বিপরীতে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড পায়। জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চতুর্থ দিনেই মাত্র এক উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব মিলিয়ে দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

এই জয়ের অন্যতম নায়ক হাসান মাহমুদ ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন, যিনি পুরো ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসিয়ে দিতে মেহেদী হাসান মিরাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং তানজিদ হাসান ১০১ রানের শতক হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট শতকের রেকর্ড গড়েন। উল্লেখ্য, এই টেস্টের আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল, অথচ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই দলই অস্ট্রেলিয়ার মূল দলকে তাদের ঘরের মাঠে ৯ উইকেটে হারিয়ে দিল।

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন