দুর্ঘটনার সময় মুমিনের করণীয় ও আল্লাহর ওপর আস্থার গুরুত্ব

প্রকাশ:

ইসলামের দৃষ্টিতে এই দুনিয়া মুমিনের জন্য পরীক্ষার জায়গা। আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ, প্রাণ এবং ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, 'আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ, প্রাণ ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।' (সুরা বাকারা : ১৫৫)। এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে আমাদের জানিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার যাবতীয় বিপদ ও দুর্ঘটনা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের পরীক্ষা, যার মাধ্যমে মানুষের ঈমান, তাকওয়া ও ধৈর্য যাচাই করা হয়।

দুর্ঘটনার সময় মুমিনের করণীয় সম্পর্কে ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। প্রথমত, বিপদ শুনলে 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' পাঠ করা সুন্নত। দ্বিতীয়ত, ধৈর্য ধারণ করা এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। তৃতীয়ত, সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা। একজন মুমিন বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহর ফয়সালায় কোনো ভুল নেই এবং আপাতদৃষ্টিতে অকল্যাণকর মনে হলেও এর পেছনে কল্যাণ নিহিত থাকতে পারে। চতুর্থত, দোয়া করা, কারণ হাদিসে এসেছে যে দোয়া ভাগ্যও পরিবর্তন করতে পারে।

অনেকেই দুর্ঘটনার সময় হতাশ হয়ে পড়েন বা আল্লাহর প্রতি সন্দেহ পোষণ করেন। অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন, 'একজন মুসলমান কোনো কষ্ট, অসুখ, উদ্বেগ, দুঃখ, দুশ্চিন্তা কিংবা বিষণ্ণতায় পতিত হলে, এমনকি তার শরীরে কোনো কাঁটা বিঁধলেও, আল্লাহ তাতে তার গুনাহ মাফ করে দেন।' (বোখারি : ৫৬৪১)। এই হাদিস প্রমাণ করে যে, দুর্ঘটনা বান্দার গুনাহ মোচনের মাধ্যম হতে পারে। এছাড়া মুমিনের অবস্থা আশ্চর্যজনক; সুখের সময় সে শুকরিয়া আদায় করে এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করে, উভয় অবস্থাতেই তার জন্য কল্যাণ রয়েছে (মুসলিম : ২৯৯৯)।

নবী-রাসুলদের জীবনেও কঠিন পরীক্ষার নজির রয়েছে। ইউসুফ (আ.)-কে ভাইয়েরা কূপে ফেলে দিয়েছিল, আইয়ুব (আ.) দীর্ঘ ১৮ বছর রোগে ভুগেছেন এবং প্রিয়জন হারিয়েছেন, আর মুহাম্মদ (সা.) উহুদ যুদ্ধ ও তায়েফের ঘটনার মতো কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। আল্লাহ বলেন, 'আপনি কি মনে করেন যে, আপনি ঈমান আনবেন এবং পরীক্ষা করা হবে না?' (সুরা আনকাবুত : ২)।

সামাজিক পর্যায়ে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের জন্য দোয়া করা, সহযোগিতা করা এবং সতর্কতা অবলম্বন করা মুমিনের দায়িত্ব। এছাড়া সমষ্টিগত গুনাহ থেকে বাঁচতে তওবা ও ইসতেগফার বৃদ্ধি করা জরুরি। দুর্ঘটনা কেবল হৃদয়বিদারক ঘটনা নয়, বরং এটি আত্মিক উন্নতির সোপান। বিপদে ধৈর্য ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে এই কঠিন সময়গুলোকে জান্নাতের সোপানে পরিণত করা সম্ভব।

দুর্ঘটনার সময় করণীয়: যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তখন একজন মুসলমানের উচিত এসব বিষয় মেনে চলা এক. ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলা : এ দোয়া পড়া সুন্নত। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব। (সুরা বাকারা : ১৫৬)। দুই. ধৈর্য ধারণ ও সালাত কায়েম : এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও।’ (সুরা বাকারা : ৪৫)। তিন. আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা : দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ হয়ত আমরা বুঝি না, কিন্তু একজন মুমিন বিশ্বাস করে- আল্লাহর ফয়সালায় কোনো ভুল নেই। সব কিছুতেই কল্যাণ আছে, যা আমরা এখন বুঝি না, কিন্তু ভবিষ্যতে বুঝতে পারি। চার. দোয়া করা : হাদিসে এসেছে, ‘দোয়া ভাগ্যও পরিবর্তন করে দিতে পারে।’ (তিরমিজি)।

শেয়ার করুন