১৫ আগস্ট: শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

প্রকাশ:

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হামলায় বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল প্রাণ হারান। এছাড়া পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরাও সেদিন নিহত হন।

ওই হামলায় শেখ মুজিবুর রহমানের অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর স্ত্রী আরজু মণিসহ আরও কয়েকজন নিহত হন। তবে সেই সময় বিদেশে অবস্থান করায় শেখ মুজিবের দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা তাঁকে বাঙালির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতায় পরিণত করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতায় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড একটি মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট পালনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের সরকারি ছুটি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমও পরবর্তী সময়ে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। ফলে আগের বছরগুলোর মতো এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৫ আগস্ট পালনের আনুষ্ঠানিকতা নেই, তবে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে ওই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি বহন করে চলছে।

শেয়ার করুন