অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ তাদের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৪১৭ রান। এর ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের লিড ২১৯ রানে পৌঁছেছে এবং হাতে রয়েছে আরও দুই উইকেট।
মেহেদী হাসান মিরাজ এই ম্যাচে তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন। সেশনের শেষ দিকে প্যাট কামিন্সকে হুক করে ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি নিজের ইনিংসটি স্মরণীয় করে রাখেন। মাঠ ছাড়ার সময় উভয় দলের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা থেকে স্পষ্ট ছিল যে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে।
নিচের সারির ব্যাটাররা মেহেদীকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ রক্ষণাত্মক ব্যাটিং এবং বল ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের হতাশ করেছেন। বাংলাদেশের সপ্তম, অষ্টম ও নবম উইকেট জুটি ৪৭.৩ ওভার টিকে থেকেছে, যা অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডারদের ক্যাচ ছাড়ার ব্যর্থতাও বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তারা এই সেশনে মোট পাঁচটি ক্যাচ মিস করেছে। সেশনের শেষ দিকে তাসকিনের একটি সহজ ক্যাচ স্টিভেন স্মিথ এবং মেহেদীর একটি ক্যাচ ট্রাভিস হেড ধরতে ব্যর্থ হন। স্মিথ এই ক্যাচটি ধরতে পারলে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়া ফিল্ডার হিসেবে জো রুটকে ছাড়িয়ে যেতে পারতেন।
দিনের শুরুতে জশ হ্যাজলউডের বলে হাসান মাহমুদ আউট হলে ভাঙে মেহেদীর সঙ্গে তার ৪৬ রানের মূল্যবান জুটি। হাসান ৯২ বল খেলে ৪৬ রান করেন। এরপর তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ রান করে হ্যাজলউডের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। তাইজুলের বিদায়ের পর তাসকিন আহমেদও ব্যাট হাতে লড়াই চালিয়ে যান। মেহেদী ও তাসকিনের ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশ বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমবারের মতো দুই শতাধিক রানের লিড অতিক্রম করে।
এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় দিনেও অস্ট্রেলিয়া তানজিদ হাসানের দুটি সহজ ক্যাচ ছেড়েছিল। তানজিদের সেঞ্চুরির পাশাপাশি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪, মুমিনুল হকের ৪৯ ও মুশফিকুর রহিমের ৩৬ রান বাংলাদেশের বড় লিডের ভিত গড়ে দিয়েছিল।





