স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই সিন্ডিকেটে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অধিদপ্তরের পরিবহণ কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিনকে ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই ঘুষ বাণিজ্যের মূল হোতা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেন দুলাল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পিমা অ্যাসোসিয়েটসের মাধ্যমে নিয়োগের নামে মোটা অঙ্কের টাকা নিলেও চাকরি দেওয়া হয়নি অনেককে। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে দেলোয়ার হোসেন তাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। গত ৪ আগস্ট সুমন মিয়া নামের এক ভুক্তভোগী টাকা ফেরতের জন্য ফোন করলে দেলোয়ার হোসেন তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, 'তোর টাকা আমি দেবো না, সাংবাদিকের কাছ থেকে নিবি। তুই যাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছিস, তাদের কাছ থেকে নিবি। আমাকে চেনো? আমি বরিশালের সন্তান।'
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেন্ডারের মাধ্যমে ৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পিমার এমডি মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পুরোনো ১৬ জন এবং পরবর্তীতে আরও চারজনকে নিয়োগ দেন। দীর্ঘ ৮ থেকে ১৬ বছর ধরে কর্মরত লিফটম্যান, সুইপার, ঝাড়ুদার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশে চার পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দেলোয়ার হোসেন সংবাদগুলো সরিয়ে নিতে হুমকি প্রদান করেন। এমনকি গত ৫ আগস্ট রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) ক্যান্টিনে এই প্রতিবেদককে উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন, যার ভিডিও সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত আছে।
গত ২৩ জুলাই প্রশাসন শাখা-১-এর উপসচিব সুজিত দেবনাথ স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমি পরিবহণ কর্মকর্তা মো. হাফিজ উদ্দিনকে বরখাস্ত করেন। তবে দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীরা গত ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন ১০৬ এবং ই-মেইলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে, শ্রম আইন অনুযায়ী ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) যুগ্ম মহাপরিচালক মো. মতিউর রহমান জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ৪ আগস্ট ১৬ জন ভুক্তভোগী ডিআইএফই বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে দেলোয়ার হোসেন প্রকাশিত সংবাদগুলোকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন, তবে টাকা নেওয়ার বৈধতা প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দেননি।





