রাজশাহীতে সারের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, বিপাকে স্থানীয় কৃষকরা

প্রকাশ:

রাজশাহী অঞ্চলে সার বিক্রিতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চরম নৈরাজ্য। ডিলার, অসাধু খুচরা বিক্রেতা এবং মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লাখো কৃষক। অভিযোগ রয়েছে, ডিলাররা সার বরাদ্দের আগেই বরাদ্দপত্র কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন অথবা গুদাম থেকে সার দোকানে নেওয়ার আগেই খুচরা বিক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করছেন। এমনকি এক জেলার সার অন্য জেলায় বা এক উপজেলার সার অন্য উপজেলায় পাচারের ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে সারের সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকাশিত বরাদ্দ তালিকায় জুলাই ও আগস্ট মাসে নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দ বাড়লেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। কৃষকরা জানান, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে। তানোরের পলাশী গ্রামের কৃষকদের ভাষ্যমতে, ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারিত দামের টিএসপি কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। একইভাবে ডিএপি ও এমওপি সারের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি প্রতি মাসে সারের সংকট নেই বলে দাবি করলেও মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা বলছেন, সিন্ডিকেটের টাকার খেলার কাছে তারা জিম্মি। অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা সার নেই বলে ফিরিয়ে দিলেও খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি দামে সার সরবরাহের নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। বিএডিসি ডিলার মেসার্স হক অ্যান্ড সন্সের মালিক আব্দুল হকের দাবি, তার ২০২ বস্তা সার তিনদিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। অন্যদিকে বিএডিসির সহকারী পরিচালক (সার) নাসির উদ্দিনের দাবি, কৃষকরা জমিতে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করছেন বলেই চাহিদা কমছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, সার সংকটের কোনো খবর তাদের জানা নেই। তবে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, সরকার নির্ধারিত দামের বেশি নিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, মনিটরিং ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকায় কোনো প্রতিকার মিলছে না।

শেয়ার করুন