রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬: দলের বাইরে ভোট দেয়া সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়

প্রকাশ:

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের যৌথ প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে অধিবেশন কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন এবং নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত সহকারী কর্মকর্তারা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। প্রতিটি ব্যালট পেপার দুটি অংশে বিভক্ত থাকবে; একটি মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট। ভোটাররা মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।

নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ থাকবে কি-না বা এটি কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে ইসি সচিব কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দলের বাইরে ভোট দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং এটি রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনার বিষয়। তিনি বলেন, এটি নির্বাচনের কারিগরি ও আইনি পরিচালনা প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়। কমিশনের মূল লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নিয়মে নির্বাচন সম্পন্ন করা।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে বা দল থেকে পদত্যাগ করলে তার আসন শূন্য হবে। তবে পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি অযোগ্য হবেন না।

ভোট গ্রহণ শেষে বিকেল ৫টায় অধিবেশন কক্ষেই সরাসরি ভোট গণনা শুরু হবে। চার বা পাঁচজনের একটি দল ব্যালট গণনা সম্পন্ন করবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে কমিশন সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, ভোট কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে এবং সাংবাদিকদের বসার জন্য নির্ধারিত স্থান রাখা হবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তাকে বিশেষ আইডি কার্ড ইস্যু করা হবে। এছাড়া দীর্ঘ বিরতির পর, বিশেষ করে ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতির এই ঐতিহাসিক নির্বাচন দেখার সুযোগ হিসেবে কমিশনারগণও পরিদর্শন কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন।

শেয়ার করুন