বিগত আঠারো বছর ধরে চলা আন্দোলন-সংগ্রাম, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সরকারি স্বীকৃতি, ভাতা এবং বীরের মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইনজীবীদের ওপর নির্যাতন’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। যারা বিগত ১৮ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের সময় গুম, খুন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের এই অধিদপ্তরে গেজেটভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করছি। সেখানে বিগত আঠারো বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ছিলেন, গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার প্রত্যেকে ওই অধিদপ্তরে গেজেটভুক্ত হবেন। তারা স্বীকৃতি পাবেন, ভাতা পাবেন এবং বীরের মর্যাদা পাবেন।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের স্বীকৃতির বিষয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জুলাই যোদ্ধাদের গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তা পুনরায় চালু করেছেন এবং এ লক্ষ্যে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা জুলাই যোদ্ধা, সকলে আবেদন করুন। আপনারা গেজেটভুক্ত হবেন, মূল্যায়িত হবেন। স্বীকৃতি পাবেন এবং ভাতা পাবেন। আপনারা বাংলাদেশে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে বীরের মতো থাকবেন।”
আহমেদ আযম খান আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল ৩৬ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা রক্তপাত, সহযোদ্ধাদের হত্যা এবং লাখ লাখ নেতাকর্মীর ওপর হামলা-মামলার ক্ষোভ থেকেই জনগণ এই গণঅভ্যুত্থানে জেগে উঠেছিল। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রণালয় এখন এই দীর্ঘ সময়ের ভুক্তভোগীদের তালিকাভুক্ত করার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ‘১৮ বছরে গুম-খুন-নির্যাতনবিরোধী’ একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্কার কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংস্কারের পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে। জুলাই সনদে বিএনপির স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, দলটির নেতা তারেক রহমান সবার আগে এতে স্বাক্ষর করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং বিএনপি সবার আগে তা স্বাক্ষর করেছে। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান। এতে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতিসহ অন্যান্য আইনজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





