বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের বড় ঝুঁকি: আধুনিকায়নে পুলিশের বিশেষ পরিকল্পনা

প্রকাশ:

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এআইবেজড ফ্রড, ডিপফেক ব্ল্যাকমেইল, ফিন্যান্সিয়াল ফিসিং, মোবাইল ব্যাংকিং ফ্রড, র‌্যানসমওয়্যার, ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাটাক, অনলাইন র‌্যাডিক্যালাইজেশন এবং ডার্ক ওয়েবভিত্তিক তথ্য কেনাবেচার মতো অপরাধগুলো সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। এ ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন। এমনকি পুলিশ সদর দফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা দমনে পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপ এখনো অপ্রতুল বলে মনে করা হচ্ছে।

একসময় পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল চুরি, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ। বর্তমানে সেই অপরাধের সাথে যুক্ত হয়েছে সাইবার জালিয়াতি। অপরাধীরা এখন ভিপিএন, টর ব্রাউজার, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, ভার্চুয়াল নম্বর, ফেক এনআইডি দিয়ে সিম, ক্রিপ্টো পেমেন্ট, এআই জেনারেটেড ভয়েস-ভিডিও, ডিপফেক, ফিশিং কিট, রিমোট অ্যাকসেস টুল এবং ডার্কওয়েব মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করছে। বিদেশে বসে পরিচালিত অনলাইন জুয়া, হুন্ডি ও মানবপাচারের মতো অপরাধগুলো প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশকে গোলকধাঁধায় ফেলে দিচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান প্রযুক্তি দিয়ে সাইবার জগতের ওপরের স্তরে কাজ করা সম্ভব হলেও 'ডার্ক ওয়েব' থেকে তথ্য সংগ্রহ করা এখনো পুরোপুরি সম্ভব নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতা নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। তবে প্রতিটি ইউনিটকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে এবং নতুন সফটওয়্যার ও ডিভাইস আমদানি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা হুমকির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে এটিইউর নাম পরিবর্তনসহ আধুনিকায়নের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের সব উইং এখন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।

পুলিশের প্রযুক্তিগত সেবা যেমন অনলাইন জিডি, ডিজিটাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ৯৯৯ সেবা এবং ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বাড়লেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা জানান, অপরাধীরা যেভাবে প্রযুক্তি পরিবর্তন করছে, তার তুলনায় পুলিশের সক্ষমতা এখনো পিছিয়ে। তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল, আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব এবং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে দ্রুত তথ্য পাওয়ার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকীকরণের কাজ চলমান রয়েছে এবং সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচার চালানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে পুলিশ সদর দফতর। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দীন আহমদও পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে স্কুল অব কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ডকট্রিন অব ট্যাকটিস, কেন্দ্রীয় সাইবার সেন্টার, ট্যাকটিক্যাল প্রটেকশন স্কুল, ন্যাশনাল ট্যাকটিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুলিশ ইনোভেশন সেন্টার, স্কুল অব স্পেশাল উইপন অ্যান্ড ট্যাকটিস ও স্কুল অব বম্ব অ্যান্ড ব্যালিস্টিক সায়েন্স স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।

শেয়ার করুন